বইটি পড়তে পড়তে মনে পড়ে গেল, প্রায় কিশোরবেলায় স্কুলের বাৎসরিক পরীক্ষায় উৎকর্ষের স্বীকৃতি স্বরূপ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জীবনী পুরস্কার পেয়েছিলাম। সে বইটি ছিল ১৯৬৫ সালে বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ থেকে প্রকাশিত। প্রফুল্ল রসায়নী পড়তে পড়তে শুধু যে সেই
বাংলা
মাস দুয়েক আগে হাতে এল একটি চমৎকার জীবনীমূলক উপন্যাস। নাম ‘প্রফুল্ল রসায়নী’ (prafulla rasayani)। উপন্যাসের নায়ক সেই ক্ষণজন্মা ভারতীয় বিজ্ঞানী, যিনি আপামর বাঙালির কাছে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, আর সারা বিশ্বে স্যার পি.সি রে। আত্মবিস্মৃত বাঙালির জনমানসে আজও যিনি বিজ্ঞান, দেশপ্রেম, স্বদেশসেবা আর জীবনভর অফুরান ত্যাগের রোলমডেল হয়ে আছেন। তাঁর আচরণ অনুকরণীয়, তাই সমবয়সি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং তাঁকে ‘আচার্য’ বলে বরণ করে নিয়েছেন। এমন এক মানুষের জীবনী বাংলা ভাষায় বেশ কয়েকটি আছে। কিন্তু এই ‘প্রফুল্ল রসায়নী’ নিছক এক মনীষীর জীবনী নয়, সেই আশ্চর্য রসায়নবিদের জীবনের খুঁটিনাটি তথ্য নিয়ে তৈরি আদ্যন্ত এক উপন্যাস। তথ্য সমৃদ্ধ মনুষ্য জীবনী সব ধরণের পাঠকের কাছে আকর্ষণীয় না-ই হতে পারে। কিন্তু স্বাদু গদ্যে উপন্যাস পাঠের আমেজটাই আলাদা। একটু কৌতুহলি হয়েই বইটি পড়তে শুরু করেছিলাম। লেখকের সহজ আভরণহীন গদ্য আমাকে আবিষ্ট করে রাখল গোটা একটি দিন। ১৮২ পৃষ্ঠার বইটি ভুলিয়ে দিল নির্ধারিত কাজের পরিকল্পনা। আসলে গ্রন্থকার যদি একাধারে কথাকার এবং রসায়নের কৃতী ছাত্রী হন, তবে তাঁর লেখায় ভিন্নতর বৈশিষ্ট্য থাকতে বাধ্য। আর পাঠকও পেয়ে যান এক বিজ্ঞানীর বহিরঙ্গ ও অন্তরঙ্গ জীবনযাপন এবং সাধনার কথা।
Reviews
There are no reviews yet.